নারায়ণগঞ্জে একের পর এক গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত এ জেলায় গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও দগ্ধ হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পুরোনো গ্যাসলাইন, অবৈধ সংযোগ, নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার এবং অসচেতনতা মিলেই বাড়ছে ঝুঁকি।
সাম্প্রতিক সময়ের কয়েকটি ঘটনায় দেখা গেছে, গ্যাস জমে থাকা কক্ষ বা স্থাপনায় হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটছে। গত ১৩ মে সোনারগাঁওয়ের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে বিস্ফোরণে দগ্ধ হন ১২ জন। এর আগে ফতুল্লার দুটি পৃথক ঘটনায় একই পরিবারের সদস্যসহ একাধিক ব্যক্তি আগুনে দগ্ধ হন।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে গ্যাস লিকেজ ও সিলিন্ডার বিস্ফোরণসংক্রান্ত অন্তত ২৮৮টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজনকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, অনেক এলাকায় নিয়মিত গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যায়। অভিযোগ জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না। ফলে প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যেই বসবাস করতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ সংযোগ এবং অপরিকল্পিত পাইপলাইন দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত অনেক গ্যাসলাইন এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন উন্নয়নকাজের সময় পাইপলাইনের সুরক্ষা স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় লিকেজের আশঙ্কাও বাড়ছে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরোনো লাইনগুলো ধাপে ধাপে প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কোথাও গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে প্রথমেই দরজা-জানালা খুলে দিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই বৈদ্যুতিক সুইচ চালু বা বন্ধ করা যাবে না। একই সঙ্গে মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকেও বিরত থাকতে হবে।
এদিকে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দুটি উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রথমত, তিতাস গ্যাসের সঙ্গে সমন্বয় করে পুরোনো লাইনের নিরাপত্তা যাচাই করা হবে। দ্বিতীয়ত, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন উপজেলায় প্রচারাভিযান চালানো হবে।
জেলা প্রশাসনের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো দ্রুত সংস্কার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এ ধরনের দুর্ঘটনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন। তাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।