কয়েকদিন ধরেই অদ্ভুত এক ‘হামিং’ বা গম্ভীর গর্জনের শব্দ শোনা যাচ্ছিল পাহাড়ি এলাকায়। স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকলেও কেউ বুঝতে পারছিলেন না এই রহস্যময় শব্দের উৎস কী।
শেষ পর্যন্ত সেই অজানা শব্দের রহস্য ভেঙে যায় ভয়াবহ এক ঘটনায়। হঠাৎ করেই প্রায় ৬০০ ফুট উঁচু একটি বিশাল গ্লেসিয়ার (বরফ দেয়াল) ভেঙে পড়ে, কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা।
ঘটনাটি ঘটেছে একটি উচ্চ পার্বত্য হিমবাহ অঞ্চলে (হিমালয় ঘেঁষা এলাকায়), যেখানে বছরের অধিকাংশ সময় বরফে ঢাকা থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধস নামার ঠিক আগে শব্দটি আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এরপর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিশাল বরফের অংশ ভেঙে নিচে ধসে পড়ে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিন ধরে রাত ও ভোরের দিকে এই অদ্ভুত কম্পনময় শব্দ শোনা যাচ্ছিল। অনেকেই প্রথমে এটিকে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস বা কোনো অজানা প্রাকৃতিক ঘটনা ভেবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ‘হামিং’ শব্দ আসলে হিমবাহের ভেতরে চাপ তৈরি হয়ে ফাটল ধরার ফল। যখন বরফের নিচের স্তর দুর্বল হয়ে যায়, তখন ভেতরে কম্পন সৃষ্টি হয় এবং সেই কম্পন থেকেই এমন গম্ভীর শব্দ শোনা যায়।
ধস নামার পর কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বিশাল বরফ নিচে নেমে আসে এবং চারপাশে বরফের ধুলা ও কুয়াশার মতো স্তর তৈরি হয়। এতে আশপাশের এলাকা প্রায় ঢেকে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের ঘটনা আগের তুলনায় বেড়ে গেছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বরফ গলার ফলে হিমবাহ দুর্বল হয়ে পড়ছে, যা বড় ধরনের ধসের ঝুঁকি তৈরি করছে।
স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মানুষকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই।