কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড Facebook পেজে লাইভে এসে তিনি দেবীদ্বারের চলমান প্রকল্প, জনভোগান্তি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।
সংসদ সদস্য হিসেবে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পর গত তিন সপ্তাহ ধরে তিনি মাঠপর্যায়ে কাজ পর্যালোচনা করছেন বলে জানান। চলমান উন্নয়ন প্রকল্প, প্রশাসনিক তৎপরতা এবং সরকারি সেবার বাস্তব অবস্থা বোঝার ওপরই এ সময় গুরুত্ব দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
লাইভে দেবীদ্বারের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে ভাঙাচোরা সড়কের বিষয়টি সামনে আনেন এমপি হাসনাত। তিনি জানান, সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নে ইতোমধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে একাধিক কাজ শুরু হয়েছে। বর্ষা মৌসুমের আগেই গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ধাপে ধাপে সংস্কারের আশ্বাস দেন তিনি।
উন্নয়নকাজের মান ও গতি নিয়ে ঠিকাদারদের প্রতি কঠোর অবস্থানও জানান সংসদ সদস্য। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পন্ন এবং মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস না করার নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে একাধিক প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ নিয়ে ধীরগতিতে বাস্তবায়নের প্রবণতা বন্ধের সতর্কবার্তাও দেন।
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন এমপি হাসনাত। তিনি জানান, দেবীদ্বার পৌরসভায় ৩ হাজার ৮১টি এবং উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে ২০ হাজার ৬৩৫টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ হয়েছে। প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে। সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতি নির্দেশনা দেন তিনি।
এ ছাড়া কাবিখা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ইউনিয়নে ১০টি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এবং দুটি খাল পুনঃখননের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন সংসদ সদস্য।
সরকারি বরাদ্দ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা বাড়াতে ‘জবাবদিহিতা’ নামে একটি আলাদা ফেসবুক পেজ চালুর ঘোষণা দেন তিনি। এ প্ল্যাটফর্মে দেবীদ্বারের সব সরকারি প্রকল্প, বরাদ্দ ও অগ্রগতির হালনাগাদ তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা হবে বলে জানান।
লাইভে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা কামনা করেন এমপি হাসনাত। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন সচিব ও পৌরসভার কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়েও সতর্ক অবস্থানের কথা জানান।
সবশেষে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া অঙ্গীকার অনুযায়ী সরকারি অর্থ ও সেবার সুবিধা সরাসরি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার।
এখনো কোনো মতামত নেই।