গ্রামের সাধারণ একজন কৃষক হলেও কাজের মাধ্যমে হয়ে উঠেছেন অসাধারণ। কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই গ্রামের মানুষের জন্য ৮৫৮টিরও বেশি কবর খুঁড়ে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ষাটোর্ধ্ব মোহাম্মদ আলী।
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই কাজ করে যাচ্ছেন। আনুমানিক ২১ বা ২২ বছর বয়সে শুরু করা এই উদ্যোগ এখন গ্রামজুড়ে পরিচিত এক নিঃস্বার্থ সেবার নাম। তার সংরক্ষিত হিসাব অনুযায়ী ৬০৮টি কবরের তথ্য লিপিবদ্ধ রয়েছে, আর প্রায় ২৫০টির মতো কবরের কোনো লিখিত তথ্য নেই।
শুধু কবর খননেই থেমে থাকেননি মোহাম্মদ আলী। গ্রামের অসহায় মানুষের জন্য নিজ উদ্যোগে জমি কিনে কবরস্থান তৈরি করেছেন। পাশাপাশি নিজের দান করা জমিতে মসজিদ নির্মাণেও সহযোগিতা করেছেন তিনি। ধর্মীয় দায়িত্ববোধ থেকে প্রতি রমজানে বিভিন্ন মসজিদ ও বাড়িতে ইফতারের জন্য খিচুড়ি রান্না করেন বিনা পারিশ্রমিকে।
তিনি জানান, মানুষের উপকার করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই তার এই কাজের মূল প্রেরণা। যতদিন শারীরিকভাবে সক্ষম থাকবেন, ততদিন এই সেবা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তার।
পারিবারিক জীবনে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক, যাদের দুজনেরই বিয়ে হয়ে গেছে। সীমিত আয়ের মধ্যেই তার জীবনযাপন চলে। প্রায় ৪ থেকে ৫ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করে পরিবারের খরচ মেটান তিনি। তবে কোনো মৃত্যুর খবর পেলেই নিজের মোটরসাইকেলে শাবল-কোদাল নিয়ে ছুটে যান কবর খননের কাজে।
স্থানীয় হেলাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, মোহাম্মদ আলীর এই নিরলস সেবা গ্রামের মানুষের কাছে গভীর সম্মানের। তার যাতায়াত ও কাজ নির্বিঘ্ন রাখতে প্রশাসনের কাছেও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
নীরবে, নিরলসভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মোহাম্মদ আলী হয়ে উঠেছেন এক অনন্য উদাহরণ। তার মতো মানুষের জন্যই মানবতা এখনো বেঁচে আছে সমাজে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।