টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক দম্পতি ও তাদের আট বছর বয়সী মেয়েকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুরের বিরুদ্ধে। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) থেকে ছড়িয়ে পড়া ৫১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, লাঠি হাতে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার। সেখানে উপস্থিত এক নারীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে প্রথমে একজন পুরুষকে লাঠি দিয়ে আঘাত করতে দেখা যায়। পরে ওই নারী বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধরের দৃশ্য ধরা পড়ে ভিডিওতে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনাটি গত ২৭ জুন সকালে উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের তেঘরী কেশব গ্রামে ঘটে। রাস্তা নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা এবং জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরেই এ ঘটনার সূত্রপাত।
ভুক্তভোগী বাসন্তী রানীর দাবি, তাদের পারিবারিক জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে বাধা দিলে তাকে, তার স্বামী রামগোপাল সাহা এবং আট বছর বয়সী মেয়ে পায়েল সাহাকে মারধর করা হয়। একই সঙ্গে রাস্তার নামে সরকারি সড়কের পাশের কয়েকটি গাছ কেটে ফেলারও অভিযোগ করেন তিনি।
বাসন্তী রানী বলেন, চেয়ারম্যান তাদের জমি দখলের চেষ্টা করছেন। প্রতিবাদ করায় পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়েছে। এমনকি তার ছোট মেয়েও হামলার শিকার হয়েছে। এতে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানান তিনি।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চেয়ারম্যানের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায়ই প্রভাব খাটিয়ে মানুষকে ভয়ভীতি ও মারধর করা হয়।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুর। তার দাবি, স্কুলের পাশের একটি চলাচলের পথ তৈরি করতে গেলে ওই নারী বাধা দেন। এ কারণে তিনি কঞ্চি দিয়ে আঘাত করেছেন বলে স্বীকার করলেও অভিযোগের অন্যান্য বিষয় অস্বীকার করেন।
মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. বাদশা মিয়া বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা সম্ভব ছিল।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীব জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।