গোলের পর কেন কাঁদলেন মেসি? জানালেন নিজেই
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত এক রাত কাটিয়েছেন লিওনেল মেসি। তার হ্যাটট্রিকে ৩-০ গোলের জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের ফল কিংবা হ্যাটট্রিকের চেয়েও বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে প্রথম গোলের পর মেসির আবেগঘন প্রতিক্রিয়া।
কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই বল জালে পাঠিয়েছিলেন মেসি। কিন্তু অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর আলজেরিয়াও একবার জাল খুঁজে পেলেও একই কারণে সেটিও গণ্য হয়নি।
এরপর ১৭ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বক্সের বাইরে সামান্য জায়গা পেয়েই দুর্দান্ত শটে গোল করেন মেসি। বল জালে জড়ানোর পরই দেখা যায় আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না তিনি। চোখে জল নিয়ে উদযাপন করেন গোলটি।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে নিজের আবেগের কারণ ব্যাখ্যা করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তিনি জানান, বিষয়টি ফুটবলের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
মেসি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ব্যক্তিগত জীবনে কিছু কঠিন ও জটিল সময় পার করেছেন। সেই আবেগই হয়তো গোলের মুহূর্তে বাইরে চলে এসেছে।
তবে তিনি বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি। ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে বেশি আলোচনা না করলেও এই সময়টায় পাশে থাকার জন্য সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
মেসির ভাষায়, দলের সবাই তাকে মানসিকভাবে ভালো রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। সেই সমর্থন তার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
হ্যাটট্রিকের রাত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মেসি বলেন, ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে প্রতিটি অর্জনই তার কাছে বিশেষ। দীর্ঘ পথচলার পর এমন মুহূর্তগুলোকে তিনি বাড়তি প্রাপ্তি হিসেবে দেখেন।
আর্জেন্টাইন অধিনায়ক বলেন, বর্তমান সময়টা তিনি উপভোগ করছেন এবং এই দলের অংশ হতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে তিন গোল করে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করলেও ম্যাচ শেষে আলোচনার বড় অংশজুড়ে ছিল তার সেই আবেগঘন মুহূর্ত। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে সেটি যেন মনে করিয়ে দিল, মাঠের নায়করা যত বড় তারকাই হোন না কেন, তাদের জীবনেও থাকে আনন্দ, কষ্ট এবং না বলা অনেক গল্প।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।