অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শুরুটা লিওনেল মেসির জন্য খুব একটা সুখকর ছিল না। ম্যাচের প্রথম দিকেই পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে সেই হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। কিছুক্ষণ পরই গোল করে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি গড়েছেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের নতুন রেকর্ড।
ম্যাচে প্রথমে হুলিয়ান আলভারেসের নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক। ফিরতি বলে মেসির প্রথম প্রচেষ্টাও সফল হয়নি। তবে দ্বিতীয় সুযোগে আর ভুল করেননি তিনি। বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন এবং দর্শকদের উল্লাসে ভাসান।
এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৭-তে নিয়ে যান মেসি। ফলে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড পেছনে ফেলে এককভাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যান তিনি।
ম্যাচ শেষে পেনাল্টি মিসের প্রসঙ্গ টেনে মেসি বলেন, শুরুর সেই ব্যর্থতা তাকে কিছুটা বিরক্ত করেছিল। তবে পরে গোল করে দলের জয়ে অবদান রাখতে পারায় তিনি স্বস্তি পেয়েছেন।
আর্জেন্টিনা ইতোমধ্যে টানা দুই ম্যাচ জিতে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
দলের সাফল্য নিয়ে মেসি বলেন, শুরু থেকেই সব ম্যাচ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। পুরো দল আনন্দ নিয়ে খেলছে এবং সবাই একই লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সমর্থকদের উদ্দেশে মেসি বলেন, দল ইতোমধ্যে অনেক আনন্দ উপহার দিতে পেরেছে। তবে সামনের ম্যাচগুলোতেও আরও ভালো কিছু করে ভক্তদের খুশি করার চেষ্টা করবেন তারা।
ম্যাচ শেষে সতীর্থ হুলিয়ান আলভারেসও মেসির প্রশংসায় ভাসেন। তার মতে, মেসি যা করছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। মাঠে তার উপস্থিতি পুরো দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।
এদিকে ফ্রান্সের সাবেক তারকা অলিভিয়ের জিরুও মেসির প্রশংসা করেছেন। তার মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেসি আরও পরিণত ও কার্যকর হয়ে উঠছেন। শুধু গোলই নয়, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ এবং সতীর্থদের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি এখনও বিশ্বের সেরাদের একজন।
বিশ্বকাপের শুরুতেই পাঁচ গোল করে দারুণ ছন্দে রয়েছেন মেসি। তার নেতৃত্বে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নও আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে আর্জেন্টিনার।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।