মমতার বক্তব্যে নতুন বিতর্ক, ফের আলোচনায় হাদি হত্যা রহস্য
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা ব্যানার্জির সাম্প্রতিক এক বক্তব্যকে ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। চাঞ্চল্যকর ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রসঙ্গ টেনে দেওয়া তার মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
মঙ্গলবার কলকাতার ধর্মতলায় এক জনসভায় মমতা ব্যানার্জি দাবি করেন, বাংলাদেশের একটি আলোচিত হত্যা মামলার এক আসামিকে পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে সে সময় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু না বলার অনুরোধ জানানো হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তার বক্তব্যে উঠে আসে, মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নানা তথ্য তার জানা রয়েছে। তবে তিনি তা প্রকাশ করতে চান না বলে জানান। এই মন্তব্যের পরপরই বাংলাদেশে নতুন করে আলোচনা শুরু হয় এবং হত্যাকাণ্ডটির প্রকৃত পরিকল্পনাকারী কারা, সে প্রশ্ন আবারও সামনে চলে আসে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, হাদি হত্যা মামলার যেসব আসামি ভারতে গ্রেপ্তার রয়েছেন, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি নিয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান আলী আকবর খান জানিয়েছেন, তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইনি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে মমতা ব্যানার্জির বক্তব্যও তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মমতার মন্তব্যের পর ইনকিলাব মঞ্চের নেতারাও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সংগঠনটির নেতারা দাবি করেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন রাজনৈতিক দিক যুক্ত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনে প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তে আর্থিক লেনদেন, অস্ত্র সরবরাহ এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তির ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতে একাধিক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার নেপথ্যের মূল পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে তারা রাজি নন।
মমতা ব্যানার্জির সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর মামলাটি ঘিরে জনমনে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এখন সবার নজর তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের দিকে। কারণ সেই প্রতিবেদনেই স্পষ্ট হতে পারে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত পটভূমি এবং জড়িতদের ভূমিকা।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।