প্রায় আধাঘণ্টা ধরে এক হিংস্র সিংহের কবলে থেকেও অবিশ্বাস্যভাবে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন ভারতের এক পশুপালক। উপস্থিত বুদ্ধি, ধৈর্য এবং গ্রামবাসীদের সম্মিলিত চেষ্টায় নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে।
ঘটনাটি ভারতের গুজরাট রাজ্যের ভাবনগর জেলার পালিতানা তালুকের গড়জিয়া গ্রামে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত রোববার (৫ জুলাই) সকালে আক্রান্ত হন কালুভাই বোগাভাই পারমার নামে এক পশুপালক।
প্রতিদিনের মতো সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির কাছেই গবাদি পশুকে খাবার দিতে যান কালুভাই। এ সময় ঝোপের আড়াল থেকে হঠাৎ একটি সিংহ বেরিয়ে এসে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সিংহটি কালুভাইকে মাটিতে চেপে ধরে রেখেছে। প্রাণীটির একটি থাবা ছিল তার পায়ের ওপর, আর ধারালো চোয়াল চেপে ছিল হাতে। প্রথমে নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও দ্রুতই তিনি বুঝতে পারেন, বেশি প্রতিরোধ করলে সিংহটি আরও ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। তাই তিনি নড়াচড়া বন্ধ করে সম্পূর্ণ শান্ত থাকেন। এমনকি একপর্যায়ে সিংহের গায়ে আলতোভাবে হাত বুলিয়ে সেটিকে শান্ত করারও চেষ্টা করেন।
এদিকে ঘটনাটি দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা লাঠিসোঁটা নিয়ে ছুটে আসেন। তারা চিৎকার করতে থাকেন এবং পাথর ছুড়ে সিংহটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করেন। তবে চারপাশে এত হইচই হলেও সিংহটি দীর্ঘ সময় কালুভাইকে ছেড়ে দেয়নি। প্রায় ৩০ মিনিট টানটান উত্তেজনার পর গ্রামবাসীদের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে সিংহটি শেষ পর্যন্ত শিকার ছেড়ে বনের দিকে চলে যায়।
পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় কালুভাইকে উদ্ধার করে দ্রুত পালিতানা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য, তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, তবে বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সিংহের হামলার পরপরই বন বিভাগকে খবর দেওয়া হলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাননি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বন বিভাগের এই গাফিলতির প্রতিবাদ জানিয়ে তারা এলাকায় দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।