যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-সমর্থিত কূটনৈতিক উদ্যোগের পর লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল এবং ইরানের সমর্থনপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং হিজবুল্লাহর একাধিক সূত্র রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও প্রথম দিকে উত্তেজনা পুরোপুরি থামেনি। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘোষণার পরও প্রায় এক ঘণ্টা দক্ষিণ লেবাননে একাধিক বিমান অভিযান চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। পরে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার পর থেকে আর কোনো ড্রোন বা বিমান হামলা হয়নি বলে দাবি করা হয়।
অন্যদিকে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর রাতের দিকে দক্ষিণ লেবাননের একটি মহাসড়কে ড্রোন হামলায় দুইজন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক বিমান অভিযান চালায় ইসরায়েল। ওই অভিযানে কমপক্ষে ৪৭ জন নিহত হন বলে জানা যায়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে।
এক মার্কিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার এবং ইরানের কূটনৈতিক তৎপরতার ফলেই এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। তার মতে, কিছু বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ চললেও ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষ এবং লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে তাদের শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে। ২০২৪ সালে ইসরায়েল ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়ে হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের ক্ষতি করে বলে জানা যায়।
এরপর ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা পুরোপুরি স্থিতিশীল ছিল না। মাঝে মাঝেই সীমান্ত এলাকায় হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।