কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় রোপা আমন মৌসুমে সার সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। সময়মতো সার না পাওয়ায় অনেকেই বেশি দামে খোলা বাজার থেকে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি ফলন নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
উপজেলার পাগলার হাট এলাকার কৃষক মোহাম্মদ আলী ১২ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। চারা রোপণের ২১ দিনের মধ্যে সার প্রয়োগ করার কথা থাকলেও ২৬ দিন পার হওয়ার পরও তিনি প্রয়োজনীয় সার পাননি। শেষ পর্যন্ত খোলা বাজার থেকে অতিরিক্ত দামে সার কিনে জমিতে প্রয়োগ করতে হয়েছে তাকে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারদের বিক্রয়কেন্দ্র নিয়মিত খোলা না থাকা, ইউনিয়নভিত্তিক সারের বরাদ্দে অসামঞ্জস্য এবং গুদাম ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে সারের সুষ্ঠু বিতরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তাদের দাবি, কয়েকজন ডিলারের মূল গুদাম সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাইরে হওয়ায় ইউনিয়ন পর্যায়ের বিক্রয়কেন্দ্রে নিয়মিত সার সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে প্রয়োজনের সময় কৃষকরা সার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
কৃষকরা জানান, কাগজে-কলমে পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকলেও মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় সময়ে সার পাওয়া যাচ্ছে না। আমন ধানের চারা রোপণের পর নির্ধারিত সময়ে সার প্রয়োগ করতে না পারায় ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কোনো বিক্রয়কেন্দ্রে সার আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক কৃষক সেখানে ভিড় করেন। এতে দীর্ঘ লাইন ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনেক সময় নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে সার না থাকায় কৃষকদের খোলা বাজারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
এদিকে বিসিআইসি ডিলারের কাছ থেকে বিএডিসি ডিলারকে সার সরবরাহের অভিযোগও উঠেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত ২৩ আগস্ট শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজারে সারের সংকটকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা এক ডিলারের গুদামের বেড়া ভেঙে ২২৫ বস্তা সার নিয়ে যান। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সার ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, উপজেলায় মোট সারের ঘাটতি নেই। তবে ইউনিয়নভিত্তিক বরাদ্দে ভারসাম্যহীনতার কারণে শিলখুড়ি ইউনিয়নে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আগে ডিলারদের মধ্যে প্রায় সমান হারে সার বিতরণ করা হলেও শিলখুড়ি ইউনিয়নের চাহিদা তুলনামূলক বেশি ছিল। এ কারণে সেখানে সংকট দেখা দেয়। বর্তমানে অন্য ইউনিয়ন থেকে সার সমন্বয় করে সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে কৃষকদের দাবি, শুধু বরাদ্দ সমন্বয় নয়, ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিলারদের বিক্রয়কেন্দ্র নিয়মিত চালু রাখা, নির্ধারিত বরাদ্দ যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়া এবং সুষ্ঠু বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।