পূর্ব আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো–এর পূর্বাঞ্চলে বিরল ধরনের বান্ডিবুগিও ইবোলা ভাইরাস (Bundibugyo Ebola virus) ছড়িয়ে পড়েছে। এতে এখন পর্যন্ত ১৩০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং প্রায় ৬০০ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে।
এদিকে এই সংকটের মধ্যেও কঙ্গো জাতীয় ফুটবল দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দলটি আগামী ৩ জুন বেলজিয়ামের লিয়েজে ডেনমার্কের বিপক্ষে এবং ৯ জুন স্পেনে চিলির বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে।
দলের মুখপাত্র জেরি কালেমো জানান, প্রস্তুতির তিনটি ধাপ নির্ধারিত ছিল কিনশাসায় সমর্থকদের বিদায় অনুষ্ঠান, ইউরোপে দুটি প্রীতি ম্যাচ এবং ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে চূড়ান্ত ক্যাম্প। এর মধ্যে শুধুমাত্র প্রথম ধাপটি বাতিল করা হয়েছে।
কঙ্গো দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় ও ফরাসি কোচ সেবাস্তিয়াঁ দেসাব্রে বর্তমানে ইউরোপে অবস্থান করছেন। বেশিরভাগ ফুটবলার ফ্রান্সের ক্লাবে খেলেন।
ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং কঙ্গো ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে, যাতে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নির্দেশনা যথাযথভাবে মানা হয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC) জানিয়েছে, কঙ্গো, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদান থেকে আসা যাত্রীদের ওপর সাময়িক প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে। তবে কঙ্গো জাতীয় দল যেহেতু ইউরোপে অবস্থান করছে, তাই তারা এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে।
বিশ্বকাপে ‘গ্রুপ কে’-তে থাকা কঙ্গো ১৭ জুন হিউস্টনে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে যাত্রা শুরু করবে। এরপর ২৩ জুন কলম্বিয়া এবং ২৭ জুন উজবেকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে দলটি।
১৯৭৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে কঙ্গো (তৎকালীন নাম জায়ার)। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংঘাত ও সংকটের মধ্যে এই অর্জন দেশটিতে ব্যাপক আনন্দের সৃষ্টি করেছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।