ভারতের কিংবদন্তি অভিনেত্রী জয়া বচ্চন আজ ৭৮ বছরে পা রাখলেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অভিনয়, ব্যক্তিগত জীবন ও রাজনীতিতে সমানভাবে আলোচিত এই তারকা এখনও সমান প্রাসঙ্গিক।
১৯৪৮ সালের ৯ এপ্রিল মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে জন্ম নেওয়া জয়া ভাদুড়ী ছোটবেলা থেকেই সংস্কৃতিমনা পরিবেশে বড় হন। পরবর্তীতে ভারতের নামকরা Film and Television Institute of India-এ পড়াশোনা করে গোল্ড মেডেল অর্জনের মাধ্যমে নিজের প্রতিভার স্বীকৃতি পান।
চলচ্চিত্রে তার যাত্রা শুরু হয় কিংবদন্তি নির্মাতা সত্যজিৎ রায়-এর ‘মহানগর’ সিনেমার মাধ্যমে। তবে মূলধারার বলিউডে জনপ্রিয়তা পান ‘গুড্ডি’ ছবিতে অভিনয়ের পর। এরপর একের পর এক সফল সিনেমা যেমন ‘অভিমান’, ‘মিলি’, ‘চুপকে চুপকে’ সবখানেই তার অভিনয় ছিল স্বতঃস্ফূর্ত ও গভীর।
ব্যক্তিগত জীবনে জয়ার সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় তার দাম্পত্য জীবন। ১৯৭৩ সালে বলিউড সুপারস্টার অমিতাভ বচ্চন-এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বিয়ের পর ধীরে ধীরে পরিবারকে প্রাধান্য দিয়ে অভিনয় থেকে নিজেকে অনেকটাই সরিয়ে নেন। তবে তাদের সম্পর্ক বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় ও দীর্ঘস্থায়ী জুটির উদাহরণ হয়ে আছে।
অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন জয়া বচ্চন। তিনি সমাজবাদী পার্টির হয়ে একাধিকবার রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং নারীর অধিকারসহ বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে সোচ্চার থেকেছেন।
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও পর্দায় ফিরে এসে নতুন প্রজন্মের দর্শকদেরও মুগ্ধ করেন তিনি। ‘কাভি খুশি কাভি গাম’সহ বেশ কিছু চলচ্চিত্রে তার সংযত অভিনয় নতুন করে প্রশংসা কুড়ায়।
তবে ক্যারিয়ারের পাশাপাশি বিতর্কও ছিল তার জীবনের অংশ। মিডিয়ার সামনে স্পষ্টভাষী মন্তব্য, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গুঞ্জন সব মিলিয়ে তিনি সবসময়ই ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে।
সব মিলিয়ে, অভিনয় থেকে সংসদ প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন জয়া বচ্চন। ৭৮ বছর বয়সেও তার ব্যক্তিত্ব, দৃঢ়তা এবং অবস্থান তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে রেখেছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।