ইসরাইলের সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আবারও আলোচনায় এসেছে। মার্কিন কংগ্রেসের এক শুনানিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে এ বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলেও তিনি স্পষ্ট উত্তর দিতে এড়িয়ে যান।
বুধবার অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের এক শুনানিতে ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান হোয়াকিন কাস্ত্রো জানতে চান, ইসরাইলের কাছে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে কি না এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন কী।
জবাবে রুবিও বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ দেশই মনে করে ইসরাইলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে অনুসৃত মার্কিন নীতিরই প্রতিফলন। কারণ ইসরাইলের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা থেকে সাধারণত বিরত থাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন।
শুনানিতে রুবিও স্বীকার করেন, ইসরাইলের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা না করা মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
তবে কংগ্রেসম্যান কাস্ত্রো বিষয়টি নিয়ে আরও ব্যাখ্যা দাবি করেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।
তার মতে, যদি কোনো দেশের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকে, তবে সেই অস্ত্র ব্যবহারের নীতি ও সীমারেখা সম্পর্কেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জানা প্রয়োজন।
জবাবে রুবিও বলেন, প্রশ্নটি যথার্থ এবং গুরুত্বপূর্ণ। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজন হলে গোপন বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের বিষয়ে বিভিন্ন কৌশলগত ও কূটনৈতিক স্বার্থ জড়িত থাকে। তাই প্রকাশ্যে সব তথ্য আলোচনা করা সম্ভব হয় না।
উল্লেখ্য, ইসরাইল কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। একই সঙ্গে দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটিতেও স্বাক্ষর করেনি।
তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ধারণা রয়েছে যে ইসরাইলের কাছে উল্লেখযোগ্য পারমাণবিক সক্ষমতা থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে দেশটির সরকার বরাবরই কৌশলগত অস্পষ্টতার নীতি অনুসরণ করে আসছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরাইলের কয়েকজন রাজনীতিকের বক্তব্যও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধ চলাকালে কিছু মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।
এদিকে কংগ্রেসম্যান কাস্ত্রোসহ কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতা সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে চিঠি দিয়ে ইসরাইলের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতি সম্পর্কে আরও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার কারণে ইসরাইলের পারমাণবিক সক্ষমতা বিষয়টি আগামী দিনগুলোতেও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।