ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার কাঠামোগত শান্তি চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ওয়াশিংটনে দুই দেশের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দেন।
প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, চুক্তির দ্বিতীয় দফায় ইসরাইল ও লেবানন একটি পারস্পরিক এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী ধীরে ধীরে দেশের পুরো ভূখণ্ডে কার্যকর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। তবে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করতে হবে।
সেখানে বলা হয়েছে, লেবাননের ভূখণ্ডে থাকা সব অ রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করতে হবে এবং তাদের সামরিক অবকাঠামো ভেঙে ফেলতে হবে। এই শর্ত বাস্তবায়ন ও আন্তর্জাতিকভাবে যাচাই হওয়ার পর ধাপে ধাপে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে ইসরাইল।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, চুক্তির বাকি দফাগুলোর বিস্তারিতও পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সীমান্ত এলাকায় ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বিচ্ছিন্ন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘর্ষের মাত্রা কিছুটা কমেছে বলে জানা গেছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেছেন, এই চুক্তি দেশের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
অন্যদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। বর্তমানে দেশটির বাহিনী লেবাননের প্রায় ৫ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
নেতানিয়াহু আরও জানান, পরীক্ষামূলকভাবে লেবাননের সেনাবাহিনীকে দুটি এলাকায় দায়িত্ব দেওয়া হবে। একটি লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল এবং অন্যটি নদীর উত্তরাঞ্চল। এই প্রক্রিয়ার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।