ইসলামী ব্যাংকের নেতৃত্বে বিতর্কিত ব্যক্তিকে বসানোর চেষ্টা হলে তার পরিণতি ভালো হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেন, অতীতে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত এবং বর্তমানে পলাতক এক সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাকে জোরপূর্বক ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্বে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংকের প্রতিটি শেয়ারধারীই ব্যাংকটির মালিক। একজন গ্রাহকের কাছে অল্প সংখ্যক শেয়ার থাকলেও তিনি মালিকানার অংশীদার। তাই কোনোভাবেই একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যাংককে দখল করার সুযোগ দেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে গ্রাহকরাও প্রতিবাদে রাজপথে নামবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এলেও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বস্তি এখনো নিশ্চিত হয়নি। শিশু নির্যাতন, হত্যা, চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণের পরিবর্তে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দলীয় লোকদের বসানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, জনগণের মতামত ও প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলে তার রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে। জুলাই আন্দোলনের চেতনা এখনও মানুষের মধ্যে জীবন্ত রয়েছে এবং জনগণ প্রয়োজন হলে আবারও প্রতিবাদে সোচ্চার হবে।
ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের কয়েকটি ব্যাংকের গ্রাহক এখনও তাদের অর্থ উত্তোলনে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। অথচ এসব সংকট সমাধানের বদলে সরকার ইসলামী ব্যাংক নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সমাবেশে তিনি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিরও সমালোচনা করেন। তার দাবি, গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো যথেষ্ট জনআলোচনা ছাড়াই নেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করছে।
সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং মাওলানা হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।