পাবনার ঈশ্বরদীতে এ বছর লিচুর বাম্পার ফলনের আশা করেছিলেন চাষিরা। কিন্তু মৌসুমের শেষ দিকে এসে তীব্র খরা ও প্রখর রোদের কারণে সেই আশায় ভাটা পড়েছে। অতিরিক্ত তাপদাহে অনেক লিচুর খোসা কালচে ও বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। ফলে বাজারে এসব লিচুর দাম স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কমে গেছে, যা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাগানমালিক ও কৃষকরা।
দেশের অন্যতম লিচু উৎপাদন এলাকা ঈশ্বরদীতে বর্তমানে বোম্বাই লিচু সংগ্রহ ও বাজারজাতের ব্যস্ত সময় চলছে। উপজেলার বিভিন্ন বাগানে এখন লিচু পাড়া, বাছাই ও বাজারে পাঠানোর কাজ পুরোদমে চলছে। তবে কয়েক দিনের অস্বাভাবিক গরমে অনেক লিচুর গুণগত মান নষ্ট হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
ঈশ্বরদীর জয়নগর লিচু হাট ঘুরে দেখা যায়, টকটকে লাল ও আকর্ষণীয় লিচুর পাশাপাশি কালচে দাগ পড়া এবং বিবর্ণ লিচুও বিক্রির জন্য আনা হচ্ছে। ভালো মানের লিচু যেখানে প্রতি হাজার ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত লিচুর দাম নেমে এসেছে মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়।
লিচুচাষি নাজমুল হোসেন জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছিল। লাভেরও আশা ছিল বেশি। কিন্তু কয়েক দিনের প্রচণ্ড গরমে অনেক লিচুর খোসা পুড়ে গেছে। ফলে বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়া যাচ্ছে না।
আরেক চাষি আব্দুল্লাহ আল কাফি বলেন, অতিরিক্ত রোদের কারণে অনেক লিচু গাছ থেকেই ঝরে পড়ছে। ঝরে যাওয়া লিচুর বাজারমূল্যও খুব কম। অনেক সময় ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে ভালো লিচুর সঙ্গে এসব লিচু অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে।
মানিকনগর এলাকার বাগানমালিক হাফিজুর রহমান বলেন, মৌসুমের শুরুতে যে লাভের আশা ছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গরমের কারণে প্রতিদিনই ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে।
জয়নগর লিচু হাটের আড়তদার আলমগীর হোসেন জানান, বর্তমানে বাজারে প্রতি হাজার লিচু ১ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে অনেক লিচুর গায়ে কালো দাগ পড়ছে, যা ক্রেতাদের আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরে এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। এর প্রভাব শুধু লিচু নয়, অন্যান্য ফল ও ফসলেও পড়তে শুরু করেছে।
পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর প্রামাণিক বলেন, চলতি মৌসুমে ঈশ্বরদীতে লিচুর উৎপাদন সন্তোষজনক হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক তাপদাহের কারণে কিছু বাগানের লিচু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বাজারমূল্য কমে যাওয়ায় চাষিরা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবহাওয়ার এমন বৈরী পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু লিচু নয়, অঞ্চলের অন্যান্য মৌসুমি ফল উৎপাদনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ফলে কৃষকদের জন্য প্রয়োজন দ্রুত পরামর্শ ও সহায়তামূলক উদ্যোগ।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।