মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির মধ্যে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা এসেছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠক শেষে দুই নেতা যৌথভাবে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা এখন আর তারা দেখছেন না। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীর সদস্যসংখ্যা ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে।
ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ইরাকে একসময় প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। তারা মূলত ইরবিল, বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসংলগ্ন ঘাঁটি এবং রাজধানীর গ্রিন জোন এলাকায় অবস্থান করত।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি সেনা প্রত্যাহারকে দেশের অভ্যন্তরে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তিনি বলেন, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্কিন বাহিনী ইরাক ত্যাগ করবে এবং এরপর রাষ্ট্রের বাইরে কোনো গোষ্ঠীকে অস্ত্র বহনের অনুমতি দেওয়া হবে না।
বৈঠকে ট্রাম্প ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে প্রশংসা করে ‘চ্যাম্পিয়ন’ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ওয়াশিংটন সফরে আল-জাইদির অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইরাকের তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানো। বৈঠকে তিনি নতুন অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার বিষয়েও ইঙ্গিত দেন।
ট্রাম্প বলেন, ইরাকের বিশাল জ্বালানি সম্পদকে কেন্দ্র করে উভয় দেশের মধ্যে একাধিক চুক্তি হতে যাচ্ছে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
ইরাকি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার ইরাক সরকার, শেভরন, টিআই ক্যাপিটাল এবং কাতারের ইউসিসির মধ্যে একটি বড় বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।
চুক্তির আওতায় প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনে সক্ষম একটি পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে। এটি দক্ষিণাঞ্চলের বসরা শহরকে হাদিথার সঙ্গে সংযুক্ত করবে। ভবিষ্যতে পাইপলাইনটি তুরস্ক ও সিরিয়ার সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সূত্র: ডয়চে ভেলে
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।