ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর এক মাস পূর্ণ হলো আজ (২৮ মার্চ)। তবে এই সংঘাত আর শুধু ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে হাজারো প্রাণহানি ঘটেছে, অসংখ্য মানুষ গৃহহীন হয়েছে এবং বহু শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। এরপর থেকেই সংঘাত ক্রমশ বিস্তৃত হতে থাকে।
জাতিসংঘে ইরানি রেড ক্রিসেন্টের এক প্রতিনিধি জানান, ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে অনেক চিকিৎসাকর্মী নিজেদের পরিবারের সদস্যদের নিথর দেহ খুঁজে পেয়েছেন যা এই যুদ্ধের ভয়াবহতা তুলে ধরে।
এ পর্যন্ত ইরানে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৯০০ জনে পৌঁছেছে। লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ১ হাজার ১৪২ জন, যাদের মধ্যে অন্তত ১২২ জন শিশু।
ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান সংঘাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ২৬৭ জনে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও সেখানে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। পশ্চিম তীরেও নতুন করে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
এ সংঘাতের প্রভাব ইরাক ও উপসাগরীয় দেশগুলোতেও পড়েছে। ইরাকে নিহত হয়েছেন ৯৬ জন এবং বিভিন্ন উপসাগরীয় দেশে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩০ জন, যাদের অনেকেই অভিবাসী শ্রমিক।
ইসরায়েলের ভেতরেও হামলায় ১৯ জন বেসামরিক নাগরিক ও ৪ জন সেনা নিহত হয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ জন সেনা সদস্য নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে সেন্টকম।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বহুমুখী এই সংঘাত এখন পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
সূত্র: সিএনএন, আলজাজিরা
এখনো কোনো মতামত নেই।