ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক কার্যক্রমের ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত ৮০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন। প্রস্তাবিত এই অর্থের বড় অংশ যুদ্ধ পরিচালনা, ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত পুনর্গঠন এবং সামরিক সক্ষমতা জোরদারে ব্যয় করা হবে বলে জানা গেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সিনেট সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেছে পেন্টাগন। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসে অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়নি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি ক্যাপিটল হিলে আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। একইসঙ্গে উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিফেন ফিনবার্গও সিনেটরদের জানিয়েছেন, অতিরিক্ত অর্থায়নের প্রস্তাব বাজেট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
এই উদ্যোগ এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন ইরান নীতি এবং সামরিক অভিযানের যৌক্তিকতা নিয়ে ওয়াশিংটনে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন পেন্টাগনের জন্য প্রায় ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজেট প্রস্তাব করেছিল, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুনে জানিয়েছেন, যুদ্ধসংক্রান্ত অতিরিক্ত ব্যয়ের একটি প্রস্তাব শিগগিরই কংগ্রেসে উপস্থাপন করা হবে। এরপর আইনপ্রণেতারা এর প্রয়োজনীয়তা ও সমর্থনের বিষয়টি বিবেচনা করবেন।
তবে প্রস্তাবটি সহজে অনুমোদন পাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অনেক ডেমোক্র্যাট সদস্য যুদ্ধের ব্যয় বৃদ্ধির বিরোধিতা করছেন। তাদের দাবি, উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে জনগণের করের অর্থ বিদেশি সংঘাতে ব্যয় না করে অভ্যন্তরীণ খাতে বিনিয়োগ করা উচিত।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্যাটি মারে বলেন, সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ এমন একটি যুদ্ধে ব্যয় করা হচ্ছে, যার প্রতি দেশের অনেক নাগরিকের সমর্থন নেই।
গত মাসে কংগ্রেসে দেওয়া বক্তব্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ যুদ্ধের সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে ধারণা দিয়েছিলেন। তবে নতুন প্রস্তাবে সেই হিসাব বেড়ে প্রায় তিনগুণ হয়ে ৮০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
এদিকে কিছু বিশ্লেষক ও আইনপ্রণেতার মতে, প্রকৃত ব্যয় শেষ পর্যন্ত আরও বেশি হতে পারে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ব্রায়ান শ্যাটজ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, বর্তমান হিসাবের চেয়েও বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হতে পারে।
অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটর জিম ব্যাঙ্কস মনে করেন, এটি শুধু যুদ্ধের খরচ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্প ও সামরিক সক্ষমতা শক্তিশালী করার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ।
ব্যয় বৃদ্ধির সমালোচনার জবাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করত, তার সম্ভাব্য মূল্য আরও ভয়াবহ হতো। তবে তিনি স্বীকার করেন, সামরিক পদক্ষেপের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ব্যয়ও জড়িত রয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।