দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী এ হামলাকে সরাসরি আগ্রাসন হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, এর জবাব আরও কঠোরভাবে দেওয়া হবে।
বুধবার (৮ জুলাই) এক বিবৃতিতে এ অবস্থান জানায় ইরানের খাতাম আল আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স। খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।
বিবৃতিতে বলা হয়, হামলাটি এমন এক সময়ে চালানো হয়েছে যখন ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ ইরাকে শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষায় রয়েছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে কঠোর প্রতিক্রিয়ার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।
ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের জন্য ইরান নির্ধারিত নৌপথই নিরাপদ ও স্বীকৃত।
অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগের জবাব হিসেবে ইরানের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক জাহাজে হামলা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিরও লঙ্ঘন।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, হামলার পর দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর মধ্যে সিরিক এলাকায় ১০টি এবং কেশম দ্বীপের মেইসিন গ্রামে আরও চারটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি কোনো পক্ষ। ফলে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।