মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ছয় সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ৯৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ ডলারের বেশি হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা টানা কয়েকদিন ধরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের হামলার জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণের পর আগুন লাগে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে আরও কয়েকটি জাহাজকে পথ পরিবর্তন করতে হয়।
আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে এবং সামরিক পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করা হতে পারে। এ ধরনের বক্তব্য বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীও লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে। গোষ্ঠীটির এমন ঘোষণাও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।