ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন বলে দাবি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমিরাতকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে আব্বাস আরাঘচি।
বুধবার নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ চলাকালে তিনি গোপনে আমিরাত সফর করেছিলেন। যদিও এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, আবুধাবিতে নেতানিয়াহুর সফরের বিষয়টি তারা আগে থেকেই জানতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ইসরাইলের সঙ্গে এ ধরনের গোপন যোগাযোগ ক্ষমার অযোগ্য।
তিনি আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কোনো দেশ লাভবান হতে পারবে না। তেহরানের বিরুদ্ধে গোপন সহযোগিতা আঞ্চলিক বিভাজন আরও বাড়াবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরাঘচির ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরাইলের সঙ্গে যেকোনো গোপন সমঝোতা বা নিরাপত্তা সহযোগিতা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের ভবিষ্যতে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
অন্যদিকে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর কথিত সফরের কোনো ভিত্তি নেই। দেশটি বলছে, ইসরাইলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রকাশ্য কূটনৈতিক চুক্তির আওতায় পরিচালিত হচ্ছে এবং গোপন কোনো যোগাযোগের প্রয়োজন নেই।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২০ সালের আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমেই ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছে আমিরাত। সেই সম্পর্ক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং প্রকাশ্য।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। পরে বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান একই উদ্যোগে যুক্ত হয়।
এর আগে ইরান-ইসরাইল সামরিক উত্তেজনার সময় আমিরাতকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলার অভিযোগও উঠেছিল। তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে আমিরাত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
সূত্র: The Times of Israel
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।