চলমান সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নতুন পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, প্রস্তাবটিতে বাস্তবসম্মত কোনো ছাড় বা সমাধানের ইঙ্গিত নেই, বরং এতে ওয়াশিংটনের একতরফা স্বার্থকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) ইরানের একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে ইরানকে মাত্র একটি পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুদ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদের একটি অংশ ছাড় কিংবা চলমান সংঘাতে ইরানের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়নি ওয়াশিংটন বলেও দাবি করেছে তেহরান।
ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর ভাষ্য, যুদ্ধ বন্ধের আলোচনাকে শর্তসাপেক্ষ করে যুক্তরাষ্ট্র মূলত সামরিকভাবে অর্জন করতে না পারা লক্ষ্য কূটনৈতিকভাবে আদায় করতে চাইছে।
মেহর নিউজ এজেন্সি বলেছে, এই প্রস্তাব শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার বদলে আরও জটিল করে তুলবে। ফলে আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এর আগে ইরান যুদ্ধবিরতির জন্য নিজেদের প্রস্তাবে সব ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিল। সেখানে লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধ এবং গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি তোলা হয়।
ইরান আরও দাবি করেছে, সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ ফেরত দিতে হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতেও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে তেহরান।
এদিকে রোববার ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আবুল ফজল শেকারচি যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে সামরিক হামলার বিরুদ্ধে সতর্ক করেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানে আবার হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে যা তারা কল্পনাও করতে পারবে না।
ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদরেজা হাজিবাবাইও তেল স্থাপনায় হামলার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত এলে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।