ড্র মানে সাধারণত হিসাব-নিকাশে কোনো বিজয়ী নেই, কোনো পরাজিতও নেই। কিন্তু কিছু ম্যাচ থাকে, যেগুলো স্কোরবোর্ডে আটকে থাকলেও গল্পে থেমে যায় না। লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে ইরান বনাম নিউজিল্যান্ডের ২-২ ড্র ঠিক তেমনই এক ম্যাচ।
৬৩তম মিনিটে যখন নিউজিল্যান্ড ২-১ গোলে এগিয়ে, তখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটা হয়তো তাদের হাতেই চলে যাবে। ওশেনিয়ার দলটি অপেক্ষা করছিল ইতিহাস গড়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে। কিন্তু ফুটবল কখনোই শুধু হিসাবের খেলা নয়—এই ম্যাচে সেটাই আবার প্রমাণ করল ইরান।
রামিন রেজাইয়ানের একটি নিখুঁত ক্রস মুহূর্তে বদলে দেয় ম্যাচের চিত্র। বক্সের ভেতর থেকে মোহাম্মদ মুহিবির মাথায় লেগে বল জড়িয়ে যায় জালে। ২-২। মুহূর্তেই বদলে যায় স্টেডিয়ামের আবহ।
এই স্টেডিয়াম ছিল শুধু যুক্তরাষ্ট্রের মাটির একটি ভেন্যু নয়। লস অ্যাঞ্জেলেসের বিশাল ইরানি প্রবাসী কমিউনিটির কারণে এটি যেন এক টুকরো তেহরান হয়ে উঠেছিল। গ্যালারিতে থাকা হাজারো সমর্থকের উপস্থিতি ম্যাচকে দিয়েছে অন্য মাত্রা।
ইরানের গোলের পর গ্যালারিতে যে উল্লাস তৈরি হয়, তা শুধু ফুটবল আনন্দ নয়—বরং দীর্ঘদিনের আবেগ, পরিচয় আর সংগ্রামের এক প্রতিফলন।
ম্যাচের শুরুতে অবশ্য এগিয়ে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। মাত্র ৫ মিনিটে এলিজাহ জাস্টের গোলে তারা এগিয়ে যায়। তবে ইরান দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসে। ৩২ মিনিটে রামিন রেজাইয়ান সমতা ফেরান।
দ্বিতীয়ার্ধে আবারও এগিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। কিন্তু ইরান আবারও হাল ছাড়েনি। শেষ পর্যন্ত ৬৩ মিনিটে সেই স্মরণীয় গোল—যা ম্যাচের ফল বদলালেও অনুভূতির ফল বদলে দিয়েছে আরও বড়ভাবে।
শেষ বাঁশির পর স্কোরবোর্ডে লেখা ছিল ২-২। কিন্তু ইরানের জন্য এই ফল শুধুই একটি ড্র নয়। যুদ্ধ, অনিশ্চয়তা, ভিসা জটিলতা এবং মাঠের বাইরের চাপের মধ্যেও দাঁড়িয়ে থাকা একটি দলের প্রতিচ্ছবি এই ম্যাচ।
ফুটবল তাই এখানে শুধু খেলা নয়—এটি প্রতিরোধ, আবেগ আর পরিচয়ের গল্প। এবং সেই গল্পে ইরান হারেনি, বরং নিজের মতো করেই আবারও দাঁড়িয়ে গেছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।