যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধবিরতির জন্য নতুন শর্ত সামনে এনেছে ইরান। দেশটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও সার্বভৌম স্বীকৃতি দাবি করছে।
একই সঙ্গে এই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে নিয়মিত টোল আদায়ের পরিকল্পনাও করছে তেহরান। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ইরানের জন্য এটি বড় আয়ের উৎসে পরিণত হতে পারে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও এলএনজির উল্লেখযোগ্য অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়। ফলে এ পথের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইতোমধ্যে এই রুটে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে। এমন অবস্থায় হরমুজকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে আরও সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করতে চাচ্ছে ইরান।
এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক নিয়মের পরিপন্থী এবং ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, বৈশ্বিক নৌপথে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।
অন্যদিকে ইরানের নেতৃত্ব থেকেও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের বক্তব্যে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিকে কৌশলগত সুবিধা হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ হাতছাড়া করা হবে না।
বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রতিদিন যাওয়া বড় তেলবাহী জাহাজ থেকে ফি আদায় শুরু হলে ইরানের আয় কয়েকশ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।
তবে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন টোল আরোপের কোনো স্পষ্ট আইনি ভিত্তি নেই। তা সত্ত্বেও নিরাপদ পারাপারের জন্য অনানুষ্ঠানিকভাবে অর্থ লেনদেনের গুঞ্জন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এখনো কোনো মতামত নেই।