মঙ্গলবার (২ জুন) মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এক ঘোষণায় জানায়, ইরানের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম নোবিটেক্স ছাড়াও রয়েছে ওয়ালেক্স, বিটপিন এবং রামজিনেক্স।
ট্রেজারি বিভাগের দাবি, এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালিত কিছু আর্থিক কার্যক্রমের সঙ্গে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট সম্পদের যোগসূত্র রয়েছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, ২০২৫ সালে ইরানের মোট ক্রিপ্টো লেনদেনের উল্লেখযোগ্য অংশ নোবিটেক্সের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানের আর্থিক সক্ষমতা সীমিত করার মাধ্যমে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক কর্মকাণ্ডের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা সেই বৃহত্তর নীতিরই অংশ।
একই বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ নীতির লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে বিরত রাখা এবং সন্ত্রাসে অর্থায়নের সক্ষমতা কমিয়ে আনা।
এদিকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনাও নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতির উদ্যোগকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে একটি ট্যাংকারের গতিবিধি ঠেকাতে তারা হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। একই সঙ্গে অঞ্চলে ইরানের সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করার পাশাপাশি কেশম দ্বীপের কয়েকটি স্থাপনাতেও অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
অন্যদিকে ইরানের আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এবং কুয়েতের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং চলমান সামরিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।