আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের ওয়ান্টেড তালিকায় বর্তমানে ৫৯ জন বাংলাদেশি নাগরিকের নাম রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংঘটিত হত্যা, মানবপাচার, জালিয়াতি, অস্ত্র অপরাধ, চোরাচালান ও অন্যান্য অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে।
ইন্টারপোলের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত ৬ হাজারের বেশি পলাতক আসামির মধ্যে এই ৫৯ জন বাংলাদেশিও রয়েছেন। তাদের কেউ বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে, আবার কেউ বিদেশি রাষ্ট্রের আবেদনের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিকভাবে অনুসন্ধানভুক্ত হয়েছেন।
সম্প্রতি সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে ঘিরে আলোচনার পর ইন্টারপোলের রেড নোটিশ ও ওয়ান্টেড তালিকা নিয়ে নতুন করে জনমনে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রেড নোটিশ জারি হওয়া সব ব্যক্তির নাম প্রকাশ্যে ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করা হয় না। অনেক ক্ষেত্রে তদন্তের স্বার্থে বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির গতিবিধি পর্যবেক্ষণের সুবিধার্থে তথ্য গোপন রাখা হয়।
ইন্টারপোলের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও একাধিক বাংলাদেশিকে খুঁজছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, জাল মুদ্রা চক্র, চোরাচালান, তছরুপ, যৌন নির্যাতন ও অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে আন্তর্জাতিকভাবে অনুসন্ধান করা হচ্ছে বেশ কয়েকজন পলাতক আসামিকে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, মানবপাচার, জালিয়াতি, অস্ত্র মামলা, নির্যাতন ও অন্যান্য ফৌজদারি অভিযোগ রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ইন্টারপোলের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় সহজ হয়। ফলে কোনো আসামি এক দেশ থেকে অন্য দেশে পালিয়ে গেলেও তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া দ্রুততর করা সম্ভব হয়।
১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন বা ইন্টারপোল বর্তমানে বিশ্বের ১৯৬টি দেশের সদস্যভুক্ত একটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা। সীমান্ত পেরিয়ে সংঘটিত অপরাধ মোকাবিলা, পলাতক আসামি শনাক্তকরণ এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা জোরদারে সংস্থাটি কাজ করে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অপরাধ দমনে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ ও আন্তর্জাতিক তথ্য আদানপ্রদান ব্যবস্থা বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রয়োগকারী সহযোগিতা কাঠামোগুলোর একটি।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।