চায়ের ইতিহাস হাজার বছরের পুরোনো। ধারণা করা হয়, খ্রিষ্টপূর্ব ২৭২৭ অব্দে চীনের সম্রাট শেন নুং-এর রাজপ্রাসাদে একদিন গরম পানির পাত্রে বাতাসে উড়ে আসা কিছু বুনো পাতা পড়ে। পরে সেই পানি পান করে সম্রাট এক নতুন স্বাদ ও শক্তির অনুভূতি পান, যা চায়ের আবিষ্কারের সূচনা হিসেবে ধরা হয়।
প্রথমে ভেষজ ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হলেও পরবর্তীতে চা রাজকীয় পানীয় হিসেবে জনপ্রিয়তা পায়। ১৬ শতকে পর্তুগিজ বণিকদের মাধ্যমে এটি এশিয়া থেকে ইউরোপে পৌঁছায় এবং ১৭ শতকে ব্রিটিশদের হাত ধরে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় পানীয়তে পরিণত হয়।
আন্তর্জাতিক চা দিবস প্রথমবার জাতিসংঘের স্বীকৃতি পায় ২০১৯ সালে। এরপর থেকে প্রতি বছর ২১ মে বিশ্বজুড়ে নানা আয়োজনের মাধ্যমে দিবসটি পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।
আন্তর্জাতিক চা দিবসের পেছনে রয়েছে চা শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার ঐতিহাসিক আন্দোলন। ২০০৪ সালে ভারতের মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড সোশ্যাল ফোরামে (WSF) চা শ্রমিকদের দুর্দশা ও করপোরেট শোষণের বিষয়টি উঠে আসে। তখন থেকেই চা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও মজুরির দাবিতে একটি আন্তর্জাতিক দিবসের ধারণা সামনে আসে।
২০০৫ সালে দিল্লির আন্তঃদেশীয় সম্মেলনে ১৫ ডিসেম্বরকে প্রথমে চা দিবস হিসেবে বেসরকারিভাবে নির্ধারণ করা হয়, যা ঐতিহাসিক ‘বোস্টন টি পার্টি’ আন্দোলনের প্রতীকী ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল।
পরবর্তীতে ২০১৯ সালে জাতিসংঘ চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়ে ২১ মে তারিখকে আন্তর্জাতিক চা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে, যা ২০২০ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হচ্ছে।
চা শুধু একটি পানীয় নয়, বরং এটি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি, কৃষি ও শ্রমবাজারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষ এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত, যাদের বড় অংশই নারী শ্রমিক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে চা উৎপাদন ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তাই চা শিল্প টিকিয়ে রাখতে এবং শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।