ভারতের সীমান্ত নীতিকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা Human Rights Watch। সংস্থাটির দাবি, পশ্চিমবঙ্গের বহু বাঙালি মুসলিমকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীদের অবস্থানের কারণে অনেক পরিবার দুই দেশের মাঝামাঝি এলাকায় আটকা পড়ছে। এতে নারী ও শিশুরাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরু থেকে সীমান্ত দিয়ে দুই শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানোর একাধিক চেষ্টা প্রতিহত করেছে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এসব ঘটনায় শিশু ও নারীও ছিলেন।
সংস্থাটির এশিয়া বিষয়ক উপপরিচালক Meenakshi Ganguly বলেন, নাগরিকত্ব যাচাই ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত না করে মানুষকে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া মানবাধিকারের পরিপন্থী। তিনি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান আনুষ্ঠানিক যাচাই প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানান।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় এমন একাধিক ঘটনার সাক্ষ্য সংগ্রহ করেছে সংস্থাটি। অনেক ক্ষেত্রে মানুষকে রাতের আঁধারে সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
কয়েকটি ঘটনায় বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী প্রবেশে বাধা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দীর্ঘ সময় ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ এলাকায় অবস্থান করতে বাধ্য হন। পরে কিছু ক্ষেত্রে তাদের আবার ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
মানবাধিকার সংস্থাটি আরও বলেছে, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং অবৈধ অভিবাসী শনাক্তকরণের নামে অনেক মানুষের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এতে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
অন্যদিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, অবৈধভাবে অবস্থানকারী বাংলাদেশিদের নিজ দেশে ফেরানোর কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, কোনো ধরনের জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বাংলাদেশ সরকারও এর আগে জানিয়েছে, যথাযথ যাচাই-বাছাই ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে সীমান্ত দিয়ে গ্রহণ করা হবে না।
মানবাধিকার সংস্থাটির মতে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে মানবিক মর্যাদা, আইনি অধিকার এবং আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অন্যথায় সীমান্ত এলাকায় মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।