পটুয়াখালীর বাউফলে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূর শরীরে ফুটন্ত গরম পানি ঢেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার ননদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দগ্ধ ওই গৃহবধূকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের কর্পূরকাঠি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত গৃহবধূ শারমিন বেগম বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার সময় শারমিন রান্নাঘরে মাটির চুলায় ভাত রান্না করছিলেন। এ সময় পারিবারিক একটি বিষয় নিয়ে তার ননদ সালমা বেগমের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রান্নার জন্য রাখা ফুটন্ত গরম পানি শারমিনের শরীরে ছুড়ে মারার অভিযোগ ওঠে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়।
পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।
ভুক্তভোগীর স্বামী দুলাল প্যাদা জানান, তার বোন সালমা বেগম দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তার ধারণা, ওই অবস্থার কারণেই অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনা ঘটেছে।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তানজিল বলেন, ভাত রান্নার ফুটন্ত পানি শরীরে লেগে থাকায় দগ্ধের মাত্রা বেড়েছে। শারমিন বেগমের শরীরের প্রায় ২০ শতাংশ অংশ পুড়ে গেছে। ক্ষতের গভীরতা বেশি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এদিকে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, ঘটনার বিষয়ে তদন্তের জন্য পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।