হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা: ৫৫ জাহাজের গতিপথ বদল, শর্তে অনড় ইরান
হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেনটকম) জানিয়েছে, তাদের আরোপিত নৌ অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া দুটি জাহাজকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে এবং নির্দেশনা মেনে চলা নিশ্চিত করতে আরও দুটি জাহাজে তল্লাশি চালানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সেনটকম জানায়, অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। বর্তমানে এই জলপথকে ঘিরেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু তৈরি হয়েছে।
ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহারের আগে তাদের উত্থাপিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি পূরণ করতে হবে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে নতুন নৌ চলাচল ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।
তিনি আরও জানান, গত জুনে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী চুক্তি ওয়াশিংটন লঙ্ঘন করায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সরাসরি আলোচনা হচ্ছে না। বরং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা ধীর ও হিসাবি কৌশল অনুসরণ করছে।
অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহাম্মদ বাকের জোলকাদর এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ, সামরিক হুমকি ও হামলা বন্ধ, মার্কিন সেনা ও নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাতিল এবং অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হবে না।
সূত্র: এনডিটিভি
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।