মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর প্রথমবারের মতো হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে এলপিজি নিয়ে একটি ট্যাংকার বাংলাদেশে পৌঁছেছে। এটি দেশের জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ওমান উপসাগর থেকে আসা ‘এমটি বিডব্লিউইকে বোর্নহোম’ নামের জাহাজটি গত শুক্রবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পণ্য খালাস সম্পন্ন করেছে। শিপিং এজেন্টদের মতে, যুদ্ধ শুরুর পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বাংলাদেশে আসা এটিই প্রথম এলপিজিবাহী জাহাজ।
স্মার্ট গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিএম এনার্জি (বিডি) লিমিটেড ৩ হাজার ৮০০ টন এলপিজি আমদানি করে। জাহাজটি ওমানের দুকম বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে এবং পথে শ্রীলঙ্কায় আংশিক পণ্য খালাসের পর সীতাকুণ্ডে বাকি এলপিজি নামায়।
তবে যুদ্ধের কারণে এখনো বড় দুটি জ্বালানি ট্যাংকার পারস্য উপসাগরে আটকে আছে। এর মধ্যে ‘এমটি লিব্রেথা’ ৬২ হাজার টন এলএনজি নিয়ে কাতারের উপকূলে এবং ‘এমটি নরডিক পলুকস’ ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরের বাইরে অবস্থান করছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি না থাকায় জাহাজ দুটি বাংলাদেশে আসতে পারছে না।
এই পরিস্থিতিতে আটকে থাকা জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু করেছে বাংলাদেশ। গত ২৫ মার্চ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ইরান ইতিবাচক সাড়া দিলেও প্রক্রিয়া এখনো চলমান থাকায় জাহাজগুলো রওনা হতে পারেনি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে অপরিশোধিত তেলের ৮০ শতাংশ এবং এলএনজির ৬৫ শতাংশ এসেছে এই অঞ্চল থেকে। ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে দেশের জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
এখনো কোনো মতামত নেই।