উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং টানা ভারী বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী তিন দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ২০ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে অন্তত ছয় জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
শনিবার (১৯ জুলাই) প্রকাশিত বন্যা পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদ-নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর প্রভাবে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার নিচু এলাকায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমানে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলিতে ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ছাতকে সুরমা নদী এবং শেরপুরে কুশিয়ারা নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি রয়েছে।
উত্তরাঞ্চলেও নদ-নদীর পানি বাড়ছে। তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া, তারাপুর ও সরিষাবাড়ী পয়েন্টে পানি সতর্কসীমায় রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর কয়েকটি স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে, সিলেট অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতিরও দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা নেই। আগামী তিন দিন সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আরও বাড়তে পারে, ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জে জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে উজানের ভারী বৃষ্টিকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত ২৪ ঘণ্টায় নীলফামারীর ডালিয়ায় ১৯০ মিলিমিটার, ছাতকে ৮৯ মিলিমিটার, ঠাকুরগাঁওয়ে ৮২ মিলিমিটার এবং সিলেটে ৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এছাড়া ভারতের মেঘালয় রাজ্যের মৌসিনরামে ৩৮৯ মিলিমিটার এবং চেরাপুঞ্জিতে ২৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশের উজানের নদীগুলোতে পড়ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, লঘুচাপ দুর্বল হয়ে এলেও এর প্রভাবে ২০ থেকে ২২ জুলাই দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে রংপুর, সিলেটসহ উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টরা।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।