চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।
সোমবার (১৮ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রদের বাধা দিতে পুলিশ ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, “জুলাইয়ের গ্রাফিতিতে এত ভয় কিসের?”
পোস্টে হাসনাত দাবি করেন, অবৈধভাবে দায়িত্বে থাকা মেয়র প্রশাসনকে ব্যবহার করে আন্দোলনের স্মৃতি ও প্রতীক মুছে ফেলতে চাইছেন। তবে এসব উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠ রোধ করা যাবে না বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এর আগে সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের টাইগারপাস এলাকায় নতুন করে গ্রাফিতি আঁকার সময় কয়েকজন তরুণ-তরুণীর সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনজনকে আটক করা হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত রোববার সন্ধ্যায়। ওইদিন জাতীয় নাগরিক পার্টির চট্টগ্রাম মহানগর শাখার নেতাকর্মীরা ‘জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন’ কর্মসূচি পালন করেন। তাদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আন্দোলনের সময় আঁকা বিভিন্ন গ্রাফিতি মুছে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় চসিক মেয়র ও নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে সমালোচনা করেন এনসিপি নেতারা। পরে তারা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিলে বিএনপির নেতাকর্মীরাও পাল্টা অবস্থান নেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টের আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শহরের দেয়ালে দেয়ালে নানা প্রতিবাদী চিত্র, স্লোগান ও গ্রাফিতি আঁকেন। এসব গ্রাফিতি আন্দোলনের স্মৃতি, রাজনৈতিক বার্তা ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পায়।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।