বাংলাদেশের রাজনীতি ও কূটনীতির অঙ্গনে পরিচিত এক নাম Habib Ullah Khan। তিনি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং অভিজ্ঞ কূটনীতিক।
১৯৩৫ সালের ৩১ জানুয়ারি তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নবীনগরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পিতা ছিলেন আবদুস শুকুর খান। ব্যক্তিজীবনে তিনি বিবাহিত ছিলেন কূটনীতিক সালমা খানের সঙ্গে, যিনি ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালের জুলাইয়ে সালমা খান মৃত্যুবরণ করেন। তাদের একমাত্র কন্যা হুমানা খান রয়েছেন।
Bangladesh Nationalist Party (বিএনপি)-তে যোগ দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেন হাবিব উল্লাহ খান। ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৫ (বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে ১৯৭৯ সালের ২ এপ্রিল।
মন্ত্রী হিসেবে তিনি প্রথমে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রাষ্ট্রপতি Ziaur Rahman-এর মন্ত্রিসভায়। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর রাষ্ট্রপতি Abdus Sattar-এর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮২ সালের সামরিক অভ্যুত্থান পর্যন্ত তিনি মন্ত্রিপরিষদে দায়িত্বে ছিলেন।
কূটনৈতিক জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন হাবিব উল্লাহ খান। বর্ণবাদ-পরবর্তী দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করলে তিনি দেশটিতে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন Nelson Mandela।
রাজনীতি ও কূটনীতির পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিলেন তিনি। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য কাজ করা সংস্থা Assistance for Blind Children (ABC)–এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশে Rotary International-এর সাবেক জেলা গভর্নর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৩ সালের ৭ জানুয়ারি ঢাকার Evercare Hospital-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হাবিব উল্লাহ খান।
এখনো কোনো মতামত নেই।