আন্তর্জাতিক বাজারে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে স্বর্ণের দাম। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ডলার ও তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে মূল্যবান এই ধাতুর বাজার চাপে পড়েছে।
বুধবার সকালে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১৮৭ ডলারের ঘরে নেমে আসে। গত প্রায় ১১ সপ্তাহের মধ্যে এটি সর্বনিম্ন অবস্থান বলে বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
একই সময়ে মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারেও দরপতন দেখা গেছে। আগস্ট ডেলিভারির চুক্তিতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৪ হাজার ২১৩ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান স্বর্ণবাজারে বড় চাপ তৈরি করেছে। ডলারের দাম বাড়লে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, ফলে চাহিদা কমে যায়।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। তেলের দাম বাড়লে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার দীর্ঘ সময় উঁচু পর্যায়ে রাখতে পারে বলে ধারণা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতি সাধারণত স্বর্ণের জন্য নেতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছেন। সুদের হার আরও বাড়ার সম্ভাবনা জোরালো হলে স্বর্ণের বাজারে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন দেখা গেছে। রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও দিনের লেনদেনে নিম্নমুখী ছিল।
অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে স্বর্ণকে সাধারণত নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হলেও বর্তমানে উচ্চ সুদের হার ও শক্তিশালী ডলারের প্রভাব সেই সুবিধাকে অনেকটাই ম্লান করে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।