ঋতু পরিবর্তনের সময় অনেকেই গলা ব্যথায় ভোগেন। আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তনে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। ফলে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে গলা জ্বালা, খুসখুসে ভাব কিংবা ব্যথা দেখা দেয়।
প্রাথমিক অবস্থায় কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করলে আরাম মিলতে পারে। তবে সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা জ্বর, শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
নিচে গলা ব্যথা কমাতে কয়েকটি কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতি তুলে ধরা হলো
মধু
মধু প্রাকৃতিকভাবে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি (প্রদাহনাশক) গুণসম্পন্ন। এটি গলার শুষ্কতা কমাতে এবং জ্বালাপোড়া উপশমে সহায়ক হতে পারে। এক বছরের বেশি বয়সীদের জন্য মধু সাধারণত নিরাপদ।
গরম পানি বা চায়ের সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে পান করলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। সংক্রমণের কারণে সৃষ্ট প্রদাহ কমাতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।
গরম চা
গরম চা গলার অস্বস্তি কমাতে কার্যকর। বিশেষ করে ক্যামোমাইল বা আদা চায়ের মতো ভেষজ চা প্রদাহ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
চায়ের উষ্ণতা গলার পেশি শিথিল করে এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। চায়ের সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করলে উপকারিতা বাড়ে।
পুদিনা পাতা
পুদিনা সতেজ স্বাদ ও শীতলতার জন্য পরিচিত। এতে থাকা উপাদান গলার অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
পুদিনা পাতা দিয়ে চা বানিয়ে পান করা যায়। তবে অতিরিক্ত সেবন না করাই ভালো, বিশেষ করে যাদের রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তাদের সতর্ক থাকা উচিত।
রসুন ও আদা
রসুনে প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলে মনে করা হয়। অনেকে কাঁচা রসুনের ছোট কোয়া চিবিয়ে খান।আদাও গলার প্রদাহ কমাতে সহায়ক হতে পারে। আদা কুচি করে গরম পানিতে ফুটিয়ে পান করলে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া যায়।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
- গলা ব্যথা এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে
- উচ্চ জ্বর থাকলে
- গিলতে কষ্ট হলে
- শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে
এসব ক্ষেত্রে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। গলা ব্যথা সাধারণত সাময়িক সমস্যা হলেও অবহেলা করা উচিত নয়। ঘরোয়া পদ্ধতি প্রাথমিক আরাম দিতে পারে, তবে জটিলতা এড়াতে প্রয়োজন হলে চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ।
এখনো কোনো মতামত নেই।