মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। ইসরাইল ও ইরানকে ঘিরে সংঘাতের আশঙ্কা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ায় তেলের বাজারে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।
সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলারের বেশি বেড়ে ৯৬ ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দামও ৯৩ ডলারের ওপরে উঠে যায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের খবর এবং ইসরাইলের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের কারণে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ বাড়ছে, যেখান দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনায় তেলের দাম কিছুটা কমলেও নতুন পরিস্থিতিতে সেই প্রবণতা বদলে গেছে। চলতি বছরের মার্চের পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার কথা বলছেন। তিনি দাবি করেছেন, সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আগেই একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব। পাশাপাশি তিনি ইসরাইলকে নতুন করে সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওপেক প্লাস। জোটটি ধারাবাহিকভাবে চতুর্থবারের মতো উৎপাদন বৃদ্ধির ঘোষণা দিলেও অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এর প্রভাব সীমিত হতে পারে।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি হরমুজ প্রণালিতে পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হয় বা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে আগামী দিনগুলোতে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি, পরিবহন খাত এবং জ্বালানি নির্ভর দেশগুলোর ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দিকে এখন নিবিড় নজর রাখছেন বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকরা।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।