বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম চলতি বছরের বেশির ভাগ সময় ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগান।
সোমবার প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালি খুলে গেলেও বাজার পরিস্থিতি দ্রুত স্থিতিশীল হবে না। বরং ট্যাংকার সংকট, শোধনাগারের সক্ষমতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার চাপ নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
এদিকে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করার পর বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দেয়।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে তেহরান। সেখানে যুদ্ধ বন্ধ এবং ভবিষ্যতে হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে।
এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক পর্যায়ে ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৯৪ ডলারে পৌঁছায়। পরে তা কিছুটা কমে ১০৫ ডলারের কাছাকাছি স্থির হয়।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কার্যত অচল রয়েছে, যার ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
জেপি মরগানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, “চলতি বছরের বাকি সময় তেলের দাম ১০০ ডলারের আশপাশেই থাকবে এবং ২০২৬ সালে গড় দাম হতে পারে ৯৭ ডলার।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু প্রণালি খুলে দিলেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না। বৈশ্বিক সরবরাহ ঘাটতি এবং উৎপাদন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বাজারে দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।