ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় সব খাতে। জ্বালানি, খাদ্য, সোনা থেকে শুরু করে বৈশ্বিক বাণিজ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায়ও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের অস্থিরতা।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের ফলে বিশ্ববাণিজ্যের চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে তেল ও গ্যাসের বাজারে।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি স্থাপনায় হামলার কারণে উৎপাদন ও সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। ফলে এক মাসের ব্যবধানে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। একই সময়ে খাদ্যপণ্যের দামও বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন দেশ জরুরি পদক্ষেপ নিচ্ছে। কোথাও কোথাও সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হচ্ছে, আবার অনেক দেশ বাড়তি দামে জ্বালানি আমদানি করতে বাধ্য হচ্ছে। বাংলাদেশেও দ্বিগুণ দামে এলএনজি আমদানির চাপ তৈরি হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতির হিসাব-নিকাশ নতুন করে লিখছে। সংঘাত দীর্ঘ হলে এর প্রভাব উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আরও বেশি পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ইতোমধ্যেই সতর্ক করেছে যে, বিশ্ব অর্থনীতি নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও খাদ্যের পাশাপাশি কাঁচামালের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এক মাসে গমের দাম ১৮ থেকে ২২ শতাংশ, ভোজ্যতেল ২০ থেকে ২৫ শতাংশ এবং চিনির দাম ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে পশুখাদ্য ও মাংসের বাজারেও।
এদিকে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেক জাহাজ বিকল্প দীর্ঘ রুট ব্যবহার করছে, ফলে বেড়েছে সময় ও ব্যয়। কনটেইনার ভাড়া এবং বিমা খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে কৃষি খাত। সারের দাম ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে, ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। অনেক দেশ পর্যাপ্ত সার পাচ্ছে না, যা আগামী মৌসুমে খাদ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সার্বিকভাবে, চলমান এই যুদ্ধ বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা, মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতি আরও কঠিন সময়ের মুখে পড়তে পারে।
এখনো কোনো মতামত নেই।