গাজায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে যাওয়া আন্তর্জাতিক নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’কে ঘিরে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বহরের অন্তত দুটি নৌযানে ইসরায়েলি বাহিনী গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আয়োজকেরা। একই সঙ্গে বহরের প্রায় ৫০টি নৌযান আটক করার দাবিও করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ মে) এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার লাইভ সম্প্রচারে দেখা যায়, সমুদ্রে থাকা দুটি নৌযানের দিকে গুলি ছোড়ার মতো দৃশ্য। তবে কী ধরনের গুলি ব্যবহার করা হয়েছে, তা স্পষ্ট বোঝা যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, প্রাণঘাতী কোনো গুলি ব্যবহার করা হয়নি এবং এ ঘটনায় কেউ হতাহতও হয়নি। তাদের ভাষ্য, একাধিকবার সতর্ক করার পর নৌযানগুলোর দিকে ‘প্রাণঘাতী নয়’ এমন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ফ্লোটিলার আয়োজকদের দাবি, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে থাকা তাদের বহরের ৫০টি নৌযান আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। পাশাপাশি ৪০টির বেশি দেশের মোট ৪২৮ জন অংশগ্রহণকারীকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে তুরস্কের ৭৮ জন নাগরিক রয়েছেন বলেও জানানো হয়।
অন্যদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রায় ৪৩০ জন আন্দোলনকারীকে ইসরায়েলি জাহাজে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তাদের ইসরায়েলে নেওয়া হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের নিজ নিজ দেশের কনস্যুলার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
গাজার ওপর আরোপিত ‘বৈধ নৌ অবরোধ’ কার্যকর রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে তেলআবিব।
এর আগে গত এপ্রিলেও গাজামুখী একই ধরনের একটি বহর আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটকে দিয়েছিল ইসরায়েল। এবারের বহরটি তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তৃতীয়বারের মতো যাত্রা শুরু করেছিল।
এদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ইসরায়েলের পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, ফ্লোটিলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চার ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তাদের হামাসপন্থী হিসেবে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।