চট্টগ্রামের হালিশহর ও রাজধানী ঢাকায় পৃথক দুই ঘটনায় রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে চট্টগ্রামে একই পরিবারের ৯ জন দগ্ধ হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকায় চারজন গুরুতর অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হালিশহরে সেহেরির আগে বিস্ফোরণ
রবিবার দিবাগত ভোরে হালিশহরের এসি মসজিদের পাশের ‘হালিমা মঞ্জিল’ ভবনের তৃতীয় তলায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রান্নাঘরে আগে থেকেই গ্যাস লিক হয়ে জমে ছিল। চুলা জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং পুরো বাসায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
দগ্ধদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কয়েকজনকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। পথে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন।
দগ্ধদের অবস্থা
দগ্ধদের মধ্যে কয়েকজনের শ্বাসনালি শতভাগ পুড়ে গেছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে শরীরের ১৫ শতাংশের বেশি এবং শিশুদের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেলে তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বেশ কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় আইসিইউ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা জানান, প্রায় সবারই শ্বাসতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা চিকিৎসা জটিল করে তুলেছে।
ফায়ার সার্ভিসের অভিযান
বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর আগ্রাবাদ স্টেশনের কর্মকর্তা জানান, গ্যাস জমে থাকার কারণেই বিস্ফোরণটি ঘটে। খবর পেয়ে দুটি স্টেশন থেকে চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায় এবং প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিস্ফোরণে ভবনের তৃতীয় তলা প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ১০ থেকে ১২টি ফ্ল্যাটের দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকায় একই ধরনের দুর্ঘটনা
একই সময়ে রাজধানীতেও রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে চারজন গুরুতর দগ্ধ হন। তাদের আইসিইউতে রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সতর্কবার্তা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাস লিক হলে কখনোই সঙ্গে সঙ্গে আগুন বা বৈদ্যুতিক সুইচ ব্যবহার করা উচিত নয়। আগে জানালা-দরজা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। গ্যাসের গন্ধ পেলেই দ্রুত চুলা ও রেগুলেটর বন্ধ করে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
ক্রমবর্ধমান এসব দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে সামান্য অসতর্কতা ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ পরিণতি।
এখনো কোনো মতামত নেই।