দেশে জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং অবৈধ মজুদদারি রোধে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সব জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে এবং তথ্যদাতাদের জন্য পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
মন্ত্রণালয় জানায়, জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে গঠিত এসব তদারকি দল মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযানও পরিচালনা করা হচ্ছে।
অবৈধ তেল মজুদদারি ঠেকাতে সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য বা অভিযোগ দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তথ্যদাতাকে পুরস্কৃত করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে প্রায় ৬ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছে। কমিশনার ঘাট এলাকায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত হালদারের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। ঘটনাস্থল থেকে ৩০টি ড্রামে সংরক্ষিত তেল জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, একটি অসাধু চক্র সমুদ্রগামী জাহাজ ও তেল ডিপো থেকে পরিবহনের সময় জ্বালানি তেল সরিয়ে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে আসছিল।
প্রশাসন জানিয়েছে, তেল খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে তেল ডিপো, পেট্রোল পাম্প ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের আওতায় এনে পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রতিটি জেলার জন্য পৃথক ভিজিলেন্স টিম ও যোগাযোগ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এসব টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, জনগণের স্বস্তির জন্য সরকার প্রতিদিন প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে এবং বর্তমানে তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।
এখনো কোনো মতামত নেই।