দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে একাধিক সিন্ডিকেট ও চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে উঠে এসেছে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। তদন্তে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জ্বালানি খাতে মূলত দুটি বড় সিন্ডিকেট সক্রিয়। একটি চট্টগ্রামভিত্তিক, যা কর্ণফুলী নদী ও বঙ্গোপসাগর এলাকায় বিদেশি জাহাজ থেকে অবৈধভাবে তেল নামানোর সঙ্গে জড়িত। অন্যটি রাজধানীকেন্দ্রিক, যা ডিপো ও খুচরা পর্যায়ে সরবরাহ ব্যবস্থায় কারসাজি করে থাকে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্যাংকলরির মাধ্যমে পরিবহনকালে জ্বালানি চুরির ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে লোডিংয়ের সময় অতিরিক্ত তেল দেখিয়ে পরে তা কালোবাজারে বিক্রি করা হয়। পাশাপাশি দাম বৃদ্ধির আশায় পাম্প পর্যায়ে তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন অভিযানে এসব অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে বলে জানা যায়। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ অবৈধভাবে মজুত তেল জব্দ করেছে প্রশাসন, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করেছে।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ও উপকূলীয় এলাকায় বড় জাহাজ থেকে তেল নামিয়ে তা ড্রাম ও ট্যাংকে লুকিয়ে রাখার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে ‘সিস্টেম লস’ দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল সরিয়ে নেওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সরবরাহের প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি না থাকলে এই ধরনের অনিয়ম পুরো বাজার ব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তারা প্রযুক্তিনির্ভর অটোমেশন ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন।
সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত মনিটরিং চলছে।
এখনো কোনো মতামত নেই।