জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কোনো সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সরকারি অর্থভাণ্ডারের ওপর চাপ বাড়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোববার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে আইএমএফের কোনো শর্ত বা চাপ জড়িত নয়।
তিনি বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব পড়তে পারে, তবে সেটি কতটা হবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সরকার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
মন্ত্রী আরও জানান, আইএমএফের সঙ্গে ঋণ সংক্রান্ত আলোচনায় এখনো কিছু বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। এসব বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও ১৫ থেকে ৩০ দিন সময় লাগতে পারে। তবে শর্তে ঐকমত্য না হলে সরকার নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায় এমন কোনো শর্ত মেনে নেওয়া হবে না। সরকার সবসময় জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সহায়তায় নেওয়া উদ্যোগগুলো আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি ইতোমধ্যে দাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশে মূল্যবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে সীমিত রাখা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
সব মিলিয়ে সরকার পরিস্থিতি বিবেচনা করেই ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে জানান তিনি।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।