গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তান ও শ্যালককে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়ার মরদেহ পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তার লাশ উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এর আগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পদ্মা সেতুর ওপর থেকে ফোরকানের ব্যবহৃত ব্যাগ ও পোশাক উদ্ধার করে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, হত্যাকাণ্ডের পর তিনি সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
গত শুক্রবার রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ঘটে যায় মর্মান্তিক এ হত্যাকাণ্ড। নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন খানম, তাদের তিন মেয়ে মিম, মারিয়া ও ফারিয়া এবং শ্যালক রসুল মিয়া।
শনিবার সকালে প্রতিবেশীরা বাসার ভেতরে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, পরিবারের সদস্যদের খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে অচেতন করার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে একে একে হত্যা করা হয়।
তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, পারিবারিক কলহ ও ব্যক্তিগত সম্পর্কজনিত বিরোধ এ ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর নিহত শারমিনের বাবা সাহাদৎ মোল্লা কাপাসিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ফোরকান মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়। আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই ফোরকান নিখোঁজ ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট অভিযান চালাচ্ছিল। এর মধ্যে সন্দেহভাজন দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটকও করা হয়েছিল।
ফোরকান পেশায় প্রাইভেটকার চালক ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে তিনি রাউতকোনার ওই বাড়ির নিচতলায় ভাড়া ওঠেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।