বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক আবারও আলোচনায়। মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। তবে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েও ব্যক্তিগত জীবনযাপনে বেশ সাদামাটা অবস্থান ধরে রেখেছেন তিনি।
সম্প্রতি স্পেসএক্সের শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে কোম্পানিটির বাজারমূল্য নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। এর ফলে স্পেসএক্স ও টেসলায় মাস্কের মালিকানাধীন শেয়ারের মূল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। সেই হিসাবেই তার সম্পদের পরিমাণ ট্রিলিয়ন ডলারের ঘর ছুঁয়েছে বলে আলোচনায় উঠে আসে।
অথচ বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের একজন হয়েও মাস্কের প্রধান বাসস্থান কোনো বিশাল প্রাসাদ নয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে টেক্সাসের স্টারবেস এলাকায় স্পেসএক্সের কার্যক্রমের কাছাকাছি একটি ছোট্ট বাড়িতে বসবাস করছেন বলে জানা গেছে।
মার্কিন আবাসন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বক্সঅ্যাবল নির্মিত ওই বাড়ির আয়তন প্রায় ৪০০ বর্গফুট। সীমিত জায়গার মধ্যে সেখানে রয়েছে শোবার ঘর, বসার স্থান, রান্নাঘর এবং বাথরুমের ব্যবস্থা। ছোট হলেও প্রয়োজনীয় সব সুবিধা থাকায় এটি ব্যবহার করছেন মাস্ক।
২০২১ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, তার প্রধান বাসস্থান একটি সাধারণ বাড়ি, যা তিনি স্পেসএক্সের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছেন। কর্মস্থলের কাছাকাছি থাকাই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
জীবনীকার ওয়াল্টার আইজ্যাকসনের বর্ণনা অনুযায়ী, বাড়িটির ভেতরের পরিবেশও বেশ সাধারণ। একটি কাঠের টেবিলে বসেই নিয়মিত ফোনকল, মিটিং ও বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করেন মাস্ক।
এদিকে চলতি বছর ইলন মাস্কের মা মে মাস্কও ছেলের বাসায় থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি জানান, বাড়িটিতে খুব বেশি বিলাসিতার ছাপ নেই। এমনকি ফ্রিজেও খুব বেশি খাবার ছিল না। তবে এতে তার কোনো অসুবিধা হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মাস্কের এই জীবনধারা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকের মতে, বিপুল সম্পদের মালিক হয়েও তিনি ব্যক্তিগত জীবনে অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা এড়িয়ে চলেন। আবার সমালোচকদের একটি অংশ মনে করেন, সাধারণ জীবনযাপনের এই চিত্র তার জনমুখী ভাবমূর্তি তৈরির অংশও হতে পারে।
তবে বিতর্ক যাই থাকুক, প্রযুক্তি, মহাকাশ ও বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পে প্রভাব বিস্তারকারী ইলন মাস্ক আবারও প্রমাণ করেছেন, সম্পদের অঙ্ক যত বড়ই হোক, ব্যক্তিগত জীবনযাপন তার সঙ্গে সবসময় সমানতালে চলে না।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।