আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের মহাসড়কগুলোতে সম্ভাব্য যানজট এড়াতে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার। এবার ঈদযাত্রায় দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে ৯৪টি ঝুঁকিপূর্ণ স্পট চিহ্নিত করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।
সোমবার (১১ মে) ঈদ প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে ধরা হয়েছে ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে। এছাড়া ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-আরিচা, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার এবং ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বেশ কয়েকটি অংশেও যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, গাজীপুর, আবদুল্লাহপুর, বাইপাইল ও চন্দ্রা এলাকায় ঈদের সময় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ তৈরি হয়। তাই এসব স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত, বাড়তি পুলিশি নজরদারি এবং পরিবহন নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হবে।
তিনি জানান, সম্ভাব্য বৃষ্টিপাত এবারের ঈদযাত্রায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বৃষ্টির কারণে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মহাসড়কে কোরবানির পশুবাহী গাড়ির চাপও পরিস্থিতিকে জটিল করতে পারে।
গত ঈদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, গাজীপুর ও আশপাশের এলাকা থেকে একদিনে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকা ছাড়ায় মহাসড়কে তীব্র চাপ তৈরি হয়েছিল। অনেকে নির্ধারিত কাউন্টার এড়িয়ে সরাসরি সড়ক থেকে গাড়িতে ওঠার চেষ্টা করায় যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছিল। এ কারণে এবার ধাপে ধাপে ছুটি কার্যকরের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, মহাসড়কের পাশে বা ওপরে কোনো পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি ফেরিঘাটগুলোতেও বাড়তি নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে আলাদাভাবে ফেরিতে ওঠানো এবং ফেরি প্রস্তুত হওয়ার আগে যানবাহন প্রবেশ ঠেকাতে ব্যারিকেড বসানো হবে।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে আগামী ২০ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিআরটিএ সদর দপ্তরে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু থাকবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিতে বিশেষ মনিটরিং এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ টোল প্লাজা ও যানজটপ্রবণ এলাকায় বিজিবি মোতায়েন, বিআরটিসির বিশেষ ঈদ সার্ভিস এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ মহাসড়কে চালকদের ডোপ টেস্টের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।