বিশ্বকাপ মিশনের শুরুটা প্রত্যাশামতো হয়নি ব্রাজিলের। গ্রুপ ‘সি’তে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে সেলেসাওরা। তবে এই ফলকে বড় কোনো সংকট হিসেবে দেখছেন না প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমে পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিল। ২১ মিনিটে ইসমাইল সাইবারির গোলে এগিয়ে যায় মরক্কো। পরে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় সমতায় ফেরে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি স্বীকার করেন, শুরুটা মোটেও সন্তোষজনক ছিল না। তাঁর মতে, খেলোয়াড়দের মধ্যে কিছুটা চাপ ও অস্থিরতা কাজ করেছে, যার প্রভাব মাঠের পারফরম্যান্সে স্পষ্ট ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিল কোচ বলেন, প্রথমার্ধে দল অনেক বল হারিয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত লড়াইগুলোতেও পিছিয়ে ছিল। ফলে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
আনচেলত্তির ভাষায়, “আমরা ম্যাচের শুরুতে নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারিনি। কিছুটা উদ্বেগ ছিল, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলেছে। দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, কিন্তু মরক্কোর মতো শক্তিশালী ও সংগঠিত দলের বিপক্ষে ম্যাচ সহজ হওয়ার সুযোগ ছিল না।”
প্রথম ম্যাচ নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ নেই
ড্রয়ে হতাশ হলেও বিশ্বকাপের শুরুতেই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ দেখছেন না আনচেলত্তি। তাঁর মতে, বড় টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচ অনেক সময় প্রত্যাশামতো হয় না।
ব্রাজিল কোচ বলেন, “প্রথম ম্যাচে বিশ্বকাপ জেতা যায় না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দল কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং পরের ম্যাচগুলোতে নিজেদের উন্নত করে।”
তবে উন্নতির জায়গাগুলোও স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করেছেন তিনি। আনচেলত্তির মতে, মাঝমাঠে আরও ভারসাম্য এবং আক্রমণে বেশি কার্যকারিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “আমাদের আরও সুশৃঙ্খল হতে হবে। আক্রমণে আরও আক্রমণাত্মক মানসিকতা দেখাতে হবে। প্রথমার্ধে আমরা যেটা করতে চেয়েছিলাম, সেটা করতে পারিনি।”
বিরতিতেই নেন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
প্রথমার্ধের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট ছিলেন না আনচেলত্তি। তাই বিরতির সময়ই দুটি পরিবর্তন আনেন তিনি। রজার ইবানিয়েজ ও কাসেমিরোর জায়গায় মাঠে নামেন দানিলো ও ফাবিনিয়ো।
পরে দ্বিতীয়ার্ধেও আরও পরিবর্তন এনে ম্যাচের গতি বদলানোর চেষ্টা করেন ব্রাজিল কোচ।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমি যথাসময়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ৪৫ মিনিটেই দুটি পরিবর্তন করেছি, পরে আরও পরিবর্তন এনেছি। তাই বদল আনতে দেরি হয়েছে বলে মনে করি না।”
ভিনিসিয়ুসকে নিয়ে আশাবাদী কোচ
মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের সবচেয়ে উজ্জ্বল পারফরমার ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। গোল করার পাশাপাশি পুরো ম্যাচজুড়েই প্রতিপক্ষ রক্ষণকে ব্যস্ত রেখেছেন তিনি।
নিজের শিষ্যকে নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আনচেলত্তি বলেন, “ভিনিসিয়ুস অসাধারণ খেলেছে। সে সবসময় প্রতিপক্ষের জন্য হুমকি। তার সামর্থ্যের ওপর আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে। আমি মনে করি, সে দুর্দান্ত একটি বিশ্বকাপ কাটাবে।”
এখন লক্ষ্য ঘুরে দাঁড়ানো
প্রথম ম্যাচ শেষে ব্রাজিল ও মরক্কো দুই দলেরই সংগ্রহ এক পয়েন্ট। গ্রুপ পর্বের পরবর্তী ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী শুক্রবার ফিলাডেলফিয়ায়।
আনচেলত্তির বিশ্বাস, প্রথম ম্যাচের ভুলগুলো দ্রুত শুধরে নিতে পারলে দল আবারও নিজেদের ছন্দে ফিরবে।
তাঁর মতে, এই ড্র ব্রাজিলের জন্য সতর্কবার্তা হতে পারে, তবে আত্মবিশ্বাস হারানোর কোনো কারণ নেই। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।